বাড়ির বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কাজ কর্মে, রান্নায়, নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসে, ঘরের ভিতরের বাতাস ক্রমশ উত্তপ্ত ও দূষিত হতে থাকে । এই উত্তপ্ত ও দূষিত বাতাস দূর করে কক্ষের বাতাসকে নিঃশ্বাস উপযোগী ও আরামদায়ক করার প্রয়োজন হয়। যে পদ্ধতিতে কক্ষের উত্তপ্ত ও দূষিত বাতাস দূর করে বাইরের নির্মল বাতাস সরবরাহ করে কক্ষের বাতাসকে বিশুদ্ধ, নিঃশ্বাস উপযোগী ও আরামদায়ক করা হয় তাকে ভেন্টিলেশন বলে।
- নিম্নলিখিত কারণে একটি ভবনে ভেন্টিলেশন করা হয়:
- বাড়ির বাসিন্দাদের নির্মল, বিশুদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন বাতাস সরবরাহ করার জন্য,
- বায়ু চলাচল স্বাভাবিক রাখতে,
- CO2 অযথা পুঞ্জিভূত হওয়াকে প্রতিরোধ করতে,
- বাতাসে O2 ঘাটতি পূরণের জন্য,
- বিল্ডিং ম্যটেরিয়ালস-এর পচনের ফলে সৃষ্ট দুর্গন্ধ থেকে রক্ষা করার জন্য
- কক্ষের ভিতরের বাতাসকে ঘামের দুর্গন্ধ মুক্ত করার জন্য,
- বাতাসে অবস্থিত ধুলিকণা, ধোয়া, গ্যাস যা বাসিন্দাদের বা কক্ষে অবস্থানকারীদের ক্ষতি করে তা অপসারণ করার জন্য,
- কক্ষে তাপমাত্রা ও পরিবেশ অবস্থানকারীদের জন্য আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যসম্মত করার জন্য,
- বাতাসে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি একটি নির্দিষ্ট বা সহনীয় মাত্রায় রাখা, এবং
- বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট বা সহনীয় মাত্রায় রাখা ।
ভেন্টিলেশন প্রধানত দুই প্রকার
- প্রাকৃতিক ভেন্টিলেশন বা Natural Ventilation
- যান্ত্রিক ভেন্টিলেশন বা Mechanical Ventilation
বাইরের নির্মল বাতাস যখন প্রাকৃতিক উপায়ে একদিকের দরজা-জানালা বা এরূপ ওপেনিং দিয়ে প্রবেশ করে দূষিত বাতাসকে অন্য দিক দিয়ে বের করে দেয় তাকে প্রাকৃতিক ভেন্টিলেশন বলে। এজন্য কমপক্ষে রুমের ক্ষেত্রফলের ১/২০ ভাগ ওপেনিং রাখার প্রয়োজন হয়। সাধারণত দরজা, জানালা, যে কোনো ফাঁকা বা ওপেনিং, ভেন্টিলেটর ইত্যাদির সাহায্যে করা হয়ে থাকে। বাতাস প্রবেশের দিককে ইনলেট ও বের হওয়ার দিককে আউটলেট বলে। কক্ষের ভিতরের বাতাসকে যখন যান্ত্রিক উপায়ে অপসারণ করে নির্মল বাতাস পুনঃস্থাপন করা হয় তাকে যান্ত্রিক ভেন্টিলেশন বলে। সাধারণত যে কোন যন্ত্র যেমন- বৈদ্যুতিক পাখা বা ফ্যান, এগজস্ট ফ্যান, এসি ইত্যাদির সাহায্যে করা হয়ে থাকে । বাইরের নির্মল বাতাস যখন একদিকের দরজা জানালা বা ওপেনিং দিয়ে প্রবেশ করে দূষিত বাতাসকে বিপরীত দিকের দেয়ালে অবস্থিত দরজা জানালা বা ওপেনিং দিয়ে বের করে দেয় তাকে ক্রস-ভেন্টিলেশন (Cross Ventilation) বলে ।
আমাদের দেশের জলবায়ু এবং বাতাসের দিক অনুযায়ী আবাসিক ইমারতের বিভিন্ন কক্ষে ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা নিম্নরূপ হলে ভালো হয়—
শয়ন কক্ষ: অবশ্যই ক্রস ভেন্টিলেশন হতে হবে। এক্ষেত্রে বিপরীত দিকের দেয়ালে সম্ভব না হলেও কোণাকুণি বা পার্শ্ব দেয়ালে জানালা বা ওপেনিং রাখতে হবে।
বসার ঘর: সম্ভব হলে ক্রস ভেন্টিলেশন অথবা অন্তত এক পাশের বাইরের দেয়ালে জানালা থাকতে হবে।
খাবার ঘর: অন্তত এক পাশের বাইরের দেয়ালে জানালা থাকতে হবে। তবে ক্রস ভেন্টিলেশন থাকলে ভালো হয়।
পারিবারিক কক্ষ: সম্ভব হলে ক্রস ভেন্টলেশন অথবা অন্তত এক পাশের বাইরের দেয়ালে জানালা থাকতে হবে।
অতিথি কক্ষ: এটিও বেড বা শয়ন কক্ষ বিধায় অন্যান্য শয়ন কক্ষের মত ক্রস ভেন্টিলেশন রাখতে হবে।
টয়লেট/ বাথ: অন্তত এক পাশের বাইরের দেয়ালে ছোটো হলেও জানালা অবশ্যই থাকতে হবে ।
সিঁড়ি: আরামদায়ক উঠানামার জন্য মেঝে থেকে মেঝে পর্যন্ত অর্থাৎ যত বড় সম্ভব জানালা থাকলে ভালো হয় ।
রান্না ঘর, কিচেন স্টোর: উত্তম ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা থাকা বাঞ্ছনীয়, এজন্য যতদূর সম্ভব পূর্বদিকের বাইরের দেয়ালে (যদি থাকে) বা অন্তত একটি দিকে বাইরের দেয়ালে জানালা অবশ্যই থাকতে হবে। ভিতরের গ্যাস দ্রুত অপসারণের জন্য যান্ত্রিক পদ্ধতি (Exhust Fan) প্রয়োগ করা যেতে পারে ।
স্টোর, লন্ড্রি, ইউটিলিটি ইত্যাদি: অন্তত এক পাশের বাইরের দেয়ালে জানালা থাকতে হবে।
খেলাধুলা, চিত্তবিনাদেনের, সংগীত কক্ষ, স্টাডি,লাইব্রেরি, প্রার্থনা: ক্রস ভেন্টিলেশন থাকলে ভালো হয় । সম্ভব না হলে অন্তত এক পাশের বাইরের দেয়ালে বড় জানালা (যত বড় সম্ভব) ব্যবহার করতে হবে।
Read more